Menu

Saturday, June 22, 2024

Property ownership and management:


Buying and selling properties has become a troublesome work for the common people who are not accustomed to the daily activities of a land office and registry office. So, making it digital is the only way people will be relieved from this.

Measures can be taken:

1. All records should be stored digitally

2. The value of the land should be channeled through one of the Government selected banks.

3. The biometric data of both the parties should be taken.

4. To avoid manipulation of the server we can implement raid system.

5. Every child when born should be named and given a certification of birth confirming the parent's citizenship and DNA samples. Which will be uploaded to a government server. Some of these data should be accessible for the mass people to avoid fraudulence.

6. The owner should be given a license where all of his records will be saved. And by using this one card he must be able to pay, prove identity, prove marital and parental relationship, and much more.

7. The whole country should be taken under a digital map where all the information of the land owners will be available. So, that there remain no dispute.

8. If one loses his/her card then on complaining she/he should be given a replacement after verifying with biometrics.

9. There should not be any middleman or registry office. The AI will do all the verification (based on the online track history of both the parties) on behalf of both the parties.

10. After a transaction closes the new owner will be added to the digital map created earlier.

11. When buying a new land people need not to run after lawyers and deed writers. They will just login to the government database and find out the true owner.

12. Inheritance should be given to every descendants automatically and the properties they got will be registered automatically in the central server. This will be done when the original owner dies and his card will be disabled rightaway.

13. Every clinic or hospital should keep a separate department to process the birth certificates and death certificates after verifying by DNA samples.

14. If one forcefully captures any other persons land the government will take necessary measures to return the land to the original owner after verifying from the server.

15. The record will not remain safe by only storing it in government server. A distributed database should also be in place considering the safety of the data.

16. An international database should also be there which will keep record of all the owners of the properties which will be helpful for international trades and purchases.

Find me on: YouTubeInstagramFacebookSoundCloudX.COM


















নাগরিক সেবায় বিড়ম্বনা:


আমাদের দেশের মানুষ প্রতিনিয়তই সরকারি নানাবিধ সেবা নিতে গিয়ে নানারকম হয়রানির স্বীকার হচ্ছে। আর ম্যাজরিটি ক্ষেত্রে এই হয়রানির কারন হচ্ছে তথ্য ব্যাবস্থাপনা। বানান ভুল, নামে ভুল, ছবি ভুল, নাম্বার ভুল, শুধু ভুল আর ভুল!

আমরা যদি এই ভুলের ভিসিয়াস সাইকেল থেকে মুক্তি পেতে চাই তাহলে কিছু ব্যাবস্থা নিলেই চলবে:

১. প্রত্যেক হাসপাতালে একটি করে শিশু নিবন্ধন সেল থাকবে। তাদের কাজ হবে শিশুর জন্ম তারিখ, নাম, ঠিকানা, পিতা-মাতার পরিচয়, রক্তের গ্রুপ এগুলো কালেক্ট করে একটি বার্থ সার্টিফিকেট প্রদান করা। এই সকল তথ্য একটি সেন্ট্রাল ডাটাবেজে স্টোর করে রাখা হবে।

২. যখন শিশুর বয়স ১৮ হবে তখন সেন্ট্রাল সার্ভার থেকে তার অভিভাবকের নাম্বারে একটি মেসেজ যাবে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের জন্য। এরপর নির্দিষ্ট তারিখে বায়োমেট্রিক নেওয়া হয়ে গেলে সেই তথ্যগুলো সেই একই সার্ভারে যোগ হবে এবং সেই শিশুর (এখন একজন ব্যক্তি) একটি সেন্ট্রাল ডাটাবেজ তৈরি হবে যেখানে তার সমস্ত তথ্য থাকবে।

৩. এরপর সেই ব্যক্তির যতরকমের লাইসেন্স, সার্টিফিকেট যা কিছুই তৈরি হবে সবকিছুই ঐ সেন্ট্রাল ডাটাবেজের সাথে কানেক্টেড থাকবে।

৪. সেই ব্যাক্তি কোনো জবে জয়েন করলে সেই তথ্যও সেখানে থাকবে। তার নামে কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড থাকলে সেগুলোও ঐখানে ডকুমেন্টেড হবে।

৫. তার বোর্ডের সকল রেজাল্ট গুলোও সেখানে কানেক্টেড থাকবে।

৬. এভাবে একটা ডাটাবেজ বানাতে পারলে, একটি ক্লিকেই একজন নাগরিকের সমস্ত তথ্য বের করা যাবে। প্রত্যেক সরকারি অফিসে সেই ডাটাবেজের একটা ক্লায়েন্ট এন্ডের ইউজার অ্যাপ থাকবে, যার মাধ্যমে তার সমস্ত তথ্য বের করা যাবে। বার বার ডাটা এন্ট্রি নিতে হবে না। ফলে অনাকাঙ্খিত কোনো ভুল হবে না।

৭. এর আরেকটা উপকারিতা হবে সিটিজেন ক্রেডিট স্কোর, যা একজন ব্যক্তিকে লোন দেওয়া কতটা ভায়েবল, তার দাড়া কোনো ক্রাইম করার সম্ভাবনা আছে কিনা সব প্রেডিক্ট করা যাবে।

৮. এভাবে একজন নাগরিকের সকল প্রকার ডকুমেন্টস তৈরিতে আর কোনো হেসেল থাকবে না। পাসপোর্ট তৈরিতে সময় লাগবে সর্বোচ্চ দুই দিন।

৯. এর মাধ্যমে ভুয়া নাগরিক সনাক্ত করাও সহজ হয়ে যাবে। এবং ক্রিমিনাল দের ধরাও ইজি হবে।

১০. একজন ব্যক্তি যত রকমের ডিভাইস কিনবে সেগুলোও সেই ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে কেউ কারো জিনিস চুরি করতে পারবেনা। ফোন, ল্যাপটপ এগুলো চুরি একেবারে বন্ধ হয়ে যাবে। একজন ব্যক্তির নামে যত রকমের প্রোপার্টি থাকবে, তাও সেখানে ডকুমেন্টেড থাকবে (উইথ ম্যাপ)।

১১. যখন কেউ মৃত্যু বরন করবে, তখন তার ডেথ সার্টিফিকেটও সেই ডাটাবেজে যুক্ত হবে পরীক্ষা নীরিক্ষার পর।

১২. এভাবে আমরা সবার ফ্যামিলি ট্রি তৈরী করে ফেলতে পারব। এবং কেউ মারা গেলে উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তির ভাগ নিয়েও আর কোনো ঝামেলা থাকবেনা।

I think it is feasible, and the life of the citizens will be changed forever and for the better!

Find me on: YouTubeInstagramFacebookSoundCloudX.COM


















Friday, June 21, 2024

The Pursuit of Happyness:


I think we all have watched the movie called "The Pursuit of Happyness". Yes, In life we can never achieve happiness, we can only pursue it. When I was a kid I was rewarded for everything good I did. So, I was told to get a scholarship at level 5, though I had Typhoid but I got it and in return, I got an MP3 player with displays. That time it was expensive and my father bought me that. After that, I was told to get a chance in the Cadet College and I also got a chance and I was rewarded with a computer. Later in SSC, I was asked to get a Golden (GPA 5 in all the subjects) but I wanted to do a record in Dhaka Board. I knew the marks (current record), and it was achievable. I studied hard and I had a fairly good exam, in fact, it was my best performance by far (later I had a fairly good experience in the SUST admission test and also in the Marine Academy exam). I did not score a record number! I was disappointed and I knew why I didn't get that. That was because I had a fairly bad handwriting. So, people back then were judging a book by its cover not by it's content! I hope in the future people will give exams through keyboards and handwriting will not be an issue and same AI will judge all the papers (writings) so no personal biases. I thought if I got a scholarship at level 5 I would be happy forever but that happiness lasted for a few months until I got admitted to a Cadet College Admission Coaching. After that, I thought I would be happy if I got into a Cadet College and I was happy only for 6 years. Though it is not a small number but you got me, right? Then some life events took away my happiness. I was in deep sorrow but was not hopeless! I tried to perform within the limited capacity and circumstances I got! After that, it was the Corona time. I thought everyone was gonna die and to my surprise, most of us survived!

Source: amazon.com
Then it was a run for job and I was not trying my best because I was upset again. Now a days, most of my time is spent with machines as I lost faith in people! Remember, I wrote faith not hope! I am still pursuing happiness in my life and I am not sure if I will get to a happiness that will last forever. Now, look at the name of the movie. Have you seen an error? Yes, there is an error. And it was intentional. This teaches us that in the pursuit of happiness, we will all make mistakes. It is the mistakes that make us stronger and better. It is the mistakes that teach you important lessons in life. We are all here to make mistakes and learn from them and that is called "Machine Learning"! Just kidding! So, embark on the journey of life because the journey is all we should celebrate not the destination. Because, when you reach the destination it's game over or you have another destination to pursue. So, let's not be afraid to make mistakes and enjoy the journey not the place in your mind called the destination. I have learned a great lesson, not by reading a book or listening to a great monk speaking, but by scrolling through social media like you guys all do. The lesson is "The grass looks greener on the other side of the river. But the grass is actually greener where you water it." But remember to water something valuable and something important to your life. Do not try to water a desert because it will be a waste! Though, China, Saudi Arabia, and Israel are growing plants in the desert too. That's also possible!

Find me on: YouTubeInstagramFacebookSoundCloudX.COM
















Wednesday, March 20, 2024

আকাশ জুড়ে তুমি


আমার আকাশ জুড়ে শুধুই তুমি
তুমি ছাড়া অন্য কিছু ভাবার সময় নেই আমার,
তোমার আকাশ জুড়েও কি শুধুই আমি?
খুব জানতে ইচ্ছে করে।

তোমায় আমি এক বুক সমুদ্র নিয়ে ভালোবেসেছিলাম,
কিন্তু সমুদ্রের পানি তো লবণাক্ত, নোনতা,
তুমি হয়তো মিঠা পানির কাঙ্গাল
তাই মাঝে মধ্যে অনেক বিরক্ত হও।

আমি এখন শান্ত নদীর মত হতে চাই,
যেখানে থাকবে না সমুদ্রের প্রকট গর্জন
থাকবে না কোনো জোয়ার ভাটা।
কিন্তু কেন যেন খুব ভয় হয় আমার,
নদীতে বাঁধ দিলে তো নদী শুকিয়ে যায়,
তুমি কি চাও আমার ভালোবাসা কখোনো শুকিয়ে যাক?
আমি কিন্তু চাই না!

কাল বৈশাখী ঝড়ের আগমনের সময় তুমি এই পৃথিবীর বুকে এসেছ
আবার কাল বৈশাখী ঝড়ের মতো আমাকে ওলট পালট করে দিয়ে চলে যাবে নাতো?!

জানো,
যখন শিউলি তলায় শিশিরে ভেজা ঘাসের ওপর উত্তরীয়র মতো বিছিয়ে থাকে সাদা আর জাফরান রঙে মেশানো শেফালী
বিলে বিলে শাপলা শালুকের সমারোহ
তেমনই কোনো এক পরন্ত বিকেলে আমি এই ধরণীতে এসেছি।
তাই আমি স্নিগ্ধতার পূজারী,
আমি তোমার মাঝে কাশফুলের শুভ্রতাকে খুঁজে বেড়াই।

যখন বাঁশবনে ডাহুকেরা ডাকে, ডুবো জলে জড়িয়ে থাকে শালুক পাতা
তখন ঘোর লাগা চাঁদের আলোয় তোমার হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে ইচ্ছে হয় আমার,
মেঘের ভাঁজে ভাঁজে যখন জ্যোৎস্নার আলো এসে উঁকি দেয়
তখন আমার মনে হয় সে তো এমনই কোমল ও স্নিগ্ধ!

(to be continued..)




















Monday, December 23, 2019

একজন রুনু খান!

কাউন্সিলর রুনু খান ও তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড


কখনও রাজনীতি, কখনও কালো টাকা, আবার কখনও মাদক কিংবা সন্ত্রাসের আশ্রয়ে এদেশে জন্ম হয়েছে এরশাদ শিকদার থেকে শুরু করে নয়ন বন্ড এর মত অনেক ছোট বড় সন্ত্রাসীর। এদের অধিকাংশকেই শেষ পর্যন্ত ভোগ করতে হয়েছে করুণ পরিণতি। তবে কেউ কেউ আবার পারও পেয়ে যায়। তাই আজও বাংলাদেশ সন্ত্রাসমুক্ত কিংবা মাদকমুক্ত হয়ে উঠতে পারেনি। আর সন্ত্রাসীদের ত্রাসের রাজত্বে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাটাও এখন সাধারণ মানুষের জন্য বিলাসিতা!

বাংলাদেশের ঠিক মাঝ বরাবর উত্তরের জেলা জামালপুর। জামালপুর সদর সম্প্রীতির শহর হিসেবে সকলের কাছেই পরিচিত। কিন্তু সম্প্রতি একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে শান্তির এ শহরে অশান্তি বিরাজ করছে। আর এ ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভূমিদস্যু হিসেবে পরিচিত জামালপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হাসানুজ্জামান খান রুনু ও তার পুত্র জেলা ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক রাকিব খান। পিতা ও পুত্রের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ শহরবাসী দীর্ঘদিন যাবত এদের সহ্য করে আসলেও এখন তা অসহনীয় পর্যায় চলে গেছে। একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এরা শহরে ত্রাসের রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে। যারাই এদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছে সবাইকেই হতে হয়েছে মারধরের শিকার।

ভূমিদস্যু রুনু খান ও ছেলে ছাত্রলীগ নেতা রাকিব খান

তবে এদের কর্মকাণ্ড সারা দেশের মানুষের সামনে চলে আসে যখন এরা জামালপুর জেলার একজন সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা মনজুর ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়।

ঘটনার সূত্রপাত হয় একটি জাল দলিলকে কেন্দ্র করে। শহরের দেওয়ানপাড়া এলাকার রফিকুল ইসলামের মালিকানাধীন ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ জমি দলিল লেখক হাবিবুর রহমান জাল দলিল করতে জাল খারিজ, জাল খতিয়ানসহ অন্যান্য কাগজপত্র সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমা দিলে সাব-রেজিস্ট্রার সাখাওয়াত হোসেন সেগুলো জব্দ করেন। এ বিষয়ে জাল দলিলকারী অভিযুক্ত দলিল লেখক হাবিবুর রহমানের বক্তব্য নিতে গেলে তার ভাই পৌর কাউন্সিলর ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার হাসানুজ্জামান খান রুনুর নেতৃত্বে তার ছেলে রাকিব খান, ভাতিজা তুষার খান, তুহিন খান, স্বজন খান সহ ১০-১২ জন সন্ত্রাসী তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা মোস্তফা মনজুকে মারাত্মকভাবে আহত করে। যারা তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান, তারাও মারধরের শিকার হন।

ঘটনাটি ঘটে ২৮ মে, ২০১৯ মঙ্গলবার বেলা ২ টার দিকে। উল্ল্যেক্ষ যে, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের বড় একটি চক্র নিয়ন্ত্রন করে এই কাউন্সিলর। স্ট্যাম্প ভেন্ডার হবার সুবাদে সে ভুয়া জমা-খারিজ ও পর্চা তৈরির মাধ্যমে বানোয়াট দলিল সম্পাদন করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অংকের টাকা। হাসানুজ্জামান খান রুনুর একটি সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে। যার মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন জমির জাল কাগজপত্র তৈরি করে তা দখল করে আসছিল এই ভূমিদস্যু।

ঘটনার দিন অর্থাৎ মঙ্গলবার রাতেই কাউন্সিলর ও স্ট্যাম্প ভেন্ডার রুনু খান, ছেলে রাকিব খান, ভাতিজা তুষার খান, তুহিন খান, স্বজন খান, দলিল লেখক হাবিবুর রহমান, মো. উকিল মিয়া, সিদ্দিক মন্ডল, আলমগীর বাচ্চু ও অজ্ঞাত পরিচয়ের একজনকে আসামি করে সাংবাদিক মোস্তফা মনজু জামালপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কিন্তু, কে হবে স্বাক্ষী! তাদের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী দেওয়াটাও যেন একটি ভীতিকর ব্যাপার!

সেই সময় মামলার প্রধান স্বাক্ষী হন আরেক সাংবাদিক শেলু আকন্দ। আর এর পর থেকেই ভূমিদস্যু রুনু খান ও তার ছেলে রাকিব খান তাকে মামলায় স্বাক্ষী না দেওয়ার জন্য নানা রকম হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। এর মধ্যে ভূমিদস্যু রুনু খান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী সাংবাদিক মোস্তফা মনজুর ওপর হামলাকারীদের বিচার চেয়ে মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করা অন্যান্য সাংবাদিকদেরও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল। যার ফলশ্রুতিতে শহরের ৪৮ জন সাংবাদিক জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জামালপুর সদর থানায় জিডি করেন!




ঘটনার তাৎপর্য বুঝতে পেরে তড়িঘড়ি করে বিষয়টি অনুসন্ধান করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তৎকালীন জেলা প্রশাসকের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু কোনো এক অজ্ঞাত কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ পাবার পরও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি!

আর এর ফলে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে আসামী হাসানুজ্জামান খান রুনু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। এরই মধ্যে আরো বেশ কিছু সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটায় রাকিব খান ও তার সহযোগী সন্ত্রাসী দল। কিন্তু ভয়ে ভুক্তভোগীরা কেউই প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি। আর এ কারণেই যেন ভয়ংকর থেকে ভয়ংকরতর হয়ে ওঠে এই সন্ত্রাসীগোষ্ঠী।




গত ১৮ ডিসেম্বর রাত ১১ টায় ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীনেতা রুনু খান ও তার ছেলে ছাত্রলীগনেতা রাকিব খানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী শহরের দেওয়ানপাড়া এলাকায় শহররক্ষা বাঁধের বাইপাস সড়কে মোস্তফা মনজু মামলার প্রধান স্বাক্ষী সাংবাদিক শেলু আকন্দকে একা পেয়ে দেশীয় অস্ত্র ও লোহার পাইপ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পরে। আক্রমণকারী দলে মোস্তফা মনজু মামলার আসামী তুষার খান, তুহিন খান ও স্বজন খানরাও উপস্থিত ছিল। তারা শেলু আকন্দকে মারাত্মকভাবে আহত করে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশের সহায়তায় মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে তার আত্মীয়-স্বজনরা। সন্ত্রাসীদের আঘাতে তার পা দুটি ভেঙ্গে যায় এবং সারা শরীর জখমে ভরে যায়। অবস্থা বেগতিক হলে তাকে দ্রুত ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে ট্রান্সফার করা হয়। পঙ্গুত্তের ঝুঁকি নিয়ে তিনি এখন সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে পুরো শহরবাসী উত্তেজিত হয়ে ওঠে। রুনু খানের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী একসাথে সরব হয়ে ওঠে। তাদের এখন একটাই দাবি, “রুনু খানের উপযুক্ত বিচার চাই”।

আহত শেলু আকন্দকে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে
রুনু খানের বিচার চেয়ে মানববন্ধন

এ ঘটনায় ১৯ ডিসেম্বর শেলু আকন্দের বড় ভাই দেলোয়ার হোসেন বাদী হয়ে হাসানুজ্জামান খান রুনু, ছেলে রাকিব খানসহ ৬ জনকে আসামি করে জামালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সন্ত্রাসী রুনু খানের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা রাকিব খানকে পুলিশ ঘটনার দিনই আটক করে। কিন্তু রুনু খান সহ বাকি আসামীরা এখনও রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

এক সময়ের কসাই থেকে ভূমিদস্যু হয়ে ওঠা পৌর কাউন্সিলর হাসানুজ্জামান খান রুনু শুধু একজন দুর্নীতিবাজ সন্ত্রাসীই নয়, সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকও বটে। তার ছেলে জেলা ছত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হলেও ধর্মের নামে একের পর এক অধর্মের কাজ করে যাচ্ছে। আজ রাকিব খানের যথাযত বিচার না করা গেলে একজন নয়ন বন্ড হয়ে উঠতে তার বেশি সময় লাগবে না। তাই এই সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে আজ সবাই রুখে না দাঁড়ালে একসময় এরা ফুলে ফেপে উঠবে এবং জামালপুরের মত একটি শান্তিপূর্ণ জেলাকে রুপান্তরিত করবে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে!

জামালপুর ৫ আসনের মাননীয় এমপি শেলু আকন্দকে দেখতে পঙ্গু হাসপাতালে ছুটে যান
রুনু খানের বিচারে ৬ দফা দাবি নিয়ে ডিসিকে স্মারকলিপি দিলেন জেলার কর্তব্যরত সাংবাদিকরা

রুনু খান ও তার পুত্রের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিচার চেয়ে জামালপুরবাসী আজ আন্দোলনরত। তাদের আন্দোলনে মূলত ৬ টি দাবি উঠে এসেছেঃ

১. হাসানুজ্জামান খান রুনুসহ মামলার সকল আসামিকে গ্রেফতার করতে হবে।
২. পৌরসভার কাউন্সিলরের পদ থেকে হাসানুজ্জামান খান রুনুকে অব্যাহতি প্রদান করতে হবে।
৩. হাসানুজ্জামান খান রুনুর স্ট্যাম্প ভেন্ডার সনদ বাতিল করতে হবে।
৪. ভুয়া জমা-খারিজ মূলে দলিল করার জন্য হাসানুজ্জামান খান রুনুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৫. হাসানুজ্জামান খান রুনুর অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে তদন্ত এবং ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৬. সকল সাংবাদিকের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে।

এছাড়াও আন্দোলনকারীরা কাউন্সিলর রুনু খান ও তার পুত্র ছাত্রলীগ নেতা রাকিব খানকে আওয়ামীলীগের সদস্যপদ থেকে আজীবন বহিষ্কারের দাবিও জানিয়েছেন। এদেরকে বহিষ্কার করা না হলে দলে সন্ত্রাসী লালনের দায়ভার কিন্তু জেলা আওয়ামীলীগ নেতাদের ওপরও বর্তাবে। এখন তারা জামালপুর আওয়ামীলীগকে কলঙ্কমুক্ত করবে, নাকি সন্ত্রাসীদের হাতেই রাজনীতি তুলে দিবে সেটাই দেখার বিষয়!

















Tuesday, March 27, 2018

উদ্ভট কোটার পিঠে চলেছে স্বদেশ

The Bizarre Quota System In Bangladesh


বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যে দেশের মানুষ যুগে যুগে অন্যায়, অবিচার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বারবার সোচ্চার হয়েছে এবং পেয়েছে সফলতাও। ১৯৫২, ১৯৫৪, ১৯৬৬, ১৯৬৯, ১৯৭০ ও ১৯৭১ সালগুলো বাঙালি জাতির ইতিহাসকে করেছে সমৃদ্ধ এবং বিশ্বের বুকে বাঙালি জাতিকে পরিচিত করেছে একটি স্বাধীনচেতা, সংগ্রামী ও ত্যাগী জনগোষ্ঠী হিসেবে। কিন্তু আজ বাঙালি জাতিকে অনেকটা সুপরিকল্পিত অথবা অপরিকল্পিতভাবে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু আমরা আমাদের এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে যথেষ্ট অযত্ন ও অবহেলা করে এক মেরুদণ্ডহীন জাতিতে পরিণত হচ্ছি। যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে আজ থেকে ২০-৩০ বছর পর এর ফলগুলো আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাব। শুধু এতেই আমরা শান্ত হইনি, আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের অবমূল্যায়নও করতে শুরু করে দিয়েছি। একদিকে প্রাইভেট সেক্টরে মামা-চাচার প্রভাব, আর অন্যদিকে ভয়ঙ্কর এক কোটা ব্যবস্থা। যার ফলে দেশে তৈরি হচ্ছে হতাশাগ্রস্ত, বঞ্চিত এবং ক্ষুব্ধ এক তরুণ সমাজ। আজ তারা রাজপথে নেমে আসতে বাধ্য হয়েছে।

বাংলাদেশের কোটা ব্যবস্থা

আমাদের দেশের সংবিধানে অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া দরিদ্র মানুষদের উপরে তুলে আনার জন্য অস্থায়ীভাবে কোটা পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পিছিয়ে পড়া দরিদ্র জনগোষ্ঠী কারা? তারা আসলে কত শতাংশ কোটা পাওয়ার যোগ্য? এবং কতদিন ধরে তারা এই সুবিধা ভোগ করে যাবে?

বর্তমানে, দেশে মুক্তিযোদ্ধার ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনী, নারী, জেলা, উপজাতি, প্রতিবন্ধী, আনসার ও ভিডিপি, পোষ্য, খেলোয়াড়, এলাকা ও বোনসহ ২৫৭ ধরনের কোটা রয়েছে। এসব কোটা বিসিএস, সরকারি চাকরি এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি ও ভর্তির ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৫৬ শতাংশ কোটা ব্যবস্থা প্রচলিত। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও নাতি-নাতনীদের জন্য ৩০ শতাংশ, নারীদের জন্য ১০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ৫ এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে ১ শতাংশ কোটা। এখানে প্রতিবন্ধী কোটাটি বাধ্যতামূলক নয়।

প্রথমেই আসি উপজাতি কোটাতে। বাংলাদেশে উপজাতিদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১.০৩ শতাংশ। কিছু সংস্থার মতে তা ২ শতাংশের কাছাকাছি। এরা সত্যিকার অর্থেই পিছিয়ে পড়া জাতি। যেহেতু আমরা এদেরকে পিছিয়ে পড়া জাতি বলছি, তার অর্থ এরা সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং শিক্ষার দিক থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। সত্যিকার অর্থেই কি তাই?

ইউনেস্কোর হিসাব অনুযায়ী ২০১৬ সালে আমাদের দেশে শিক্ষার হার ছিল ৭২.৭৬ শতাংশের মত। আমরা যদি চাকমাদের প্রসঙ্গ আনি, তাহলে দেখব, এদের শিক্ষার হার ৭৩ শতাংশ ছাড়িয়েছে এরও আগে। যেখানে, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিদের শিক্ষার হার ২৩ ভাগের চেয়ে কিছু বেশি ছিল! উপজাতিদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়াতে কোটার সুবিধাটাও সবচেয়ে বেশি ভোগ করছে এই চাকমারাই। যার ফলে বঞ্চিত হচ্ছে অপেক্ষাকৃত ক্ষুদ্র উপজাতি গোষ্ঠীরা।

তাহলে কি উপজাতি কোটা অযৌক্তিক? উত্তর হচ্ছে, না। কিন্তু এর সংস্কার করা দরকার। চাকমারা সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং শিক্ষার দিক থেকে অন্যান্য উপজাতিদের থেকে অনেক এগিয়ে গেছে। তাদেরকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আর কোনো কোটার প্রয়োজন আছে কিনা তা অবশ্যই যাচাই করে দেখা দরকার। আর আমাদের উচিৎ সুবিধাবঞ্চিত অন্যান্য ক্ষুদ্র উপজাতি গোষ্ঠীদের প্রতি আরো মনোযোগী হওয়া। এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সুবিধাবঞ্চিত বাঙালি পরিবারদের ব্যাপারটাও নজরে আনা দরকার।

এখন আসি সংখ্যার ব্যাপারে। আমাদের দেশে উপজাতিদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার ১.০৩ থেকে ২ শতাংশের মত। সুতরাং, স্কুল-কলেজগুলোতে এবং কর্মক্ষেত্রেও অন্তত ১.০৩ থেকে ২ শতাংশের মত উপজাতিদের উপস্থিতি থাকার কথা। যদি তা থাকে তাহলে আমারা বলতে পারব, তারা অন্তত শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অন্যদের থেকে আর পিছিয়ে নেই। ধরে নিচ্ছি, কোটা সুবিধা ছাড়া তাদের পক্ষে এই সংখ্যাটি অর্জন করা সম্ভব না। ধরে নিলাম, কোটা সুবিধা ছাড়া মাত্র ০.৫ শতাংশ জায়গা উপজাতিদের দখলে যাচ্ছে, কিন্তু এর বেশি হচ্ছেনা। তাহলে, আমাদের উচিৎ হবে বাকি ১.৫ শতাংশ কোটা সুবিধা দেওয়া, যাতে করে তাদের সংখ্যা অন্তত ২ শতাংশ থাকে। অথবা, ধরে নিচ্ছি তারা নিজ যোগ্যতায় কেউই উঠে আসতে পারছেনা। তাহলে আমাদের যেটা করা উচিৎ, তা হল, তাদের জন্য পুরো ২ শতাংশ কোটাই বরাদ্দ করা। তাহলে ২ শতাংশের নিচে নামার আর কোনো ভয় নাই। কিন্তু বাস্তবে তারা ভোগ করছে ৫ শতাংশ কোটা! তাহলে কোটার মূল উদ্দেশ্য কি ঠিক থাকল? আমরা তাদের উপরে তুলতে গিয়ে বাকি ৯৮ শতাংশ মানুষদের কি বঞ্চিত করছি না? আমার মনে হয়, ব্যাপারটা আরেকবার ভেবে দেখা উচিৎ।

এখন আসা যাক জেলা কোটায়। বিসিএস এর ক্ষেত্রে প্রত্যেক বছর ১০ শতাংশ ক্যাডার জেলা কোটায় নেওয়া হয়। কিন্তু এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই। বাংলাদেশ ছোট্ট একটি দেশ। এই ছোট একটি জায়গায় জেলায় জেলায় আলাদা করে কোটা রাখার কি আদোও কোনো প্রয়োজন আছে? জেলায় জেলায় কোটা দিয়ে পুরো প্রক্রিয়াটিকে জটিল না করে, জেলা কোটা বাদ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন অনেকেই।

এরপর আসি নারী কোটায়। আমাদের দেশের মোট জনসংখ্যার ৪৯.৫৬ শতাংশই নারী। বর্তমানে, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর সরকারি চাকরিতে ১০ শতাংশ, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর চাকরিতে ১৫ শতাংশ ও প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশ নারী কোটা সংরক্ষিত রেখে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হল, নারীরা আমাদের সমাজে পিছিয়ে আছে কিনা? আর যদি পিছিয়ে থাকে, তাহলে কতটুকু পিছিয়ে আছে?

এর উত্তরে অনেক রকমের মত রয়েছে। কেউ বলছে, নারী কোটা এখনই তুলে দেওয়া উচিৎ হবে না। তবে অদূর ভবিষ্যতেই এর অবসান ঘটানো যেতে পারে। আবার অনেকেই বলছে, নারীরা আসলে পিছিয়ে নেই, ভবিষ্যতে বরং মেডিকেল কলেজগুলোতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কিছু কিছু বিষয়ে ছেলেদের জন্য কোটা রাখার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে! কেউ কেউ আবার আক্ষেপ করে বলছে যে, মেয়েদেরকে বাড়তি সুবিধা দিয়ে কেন ছেলেদের বেকারত্বের হার বাড়ানো হবে? এরকম অনেক ছোট-বড় প্রশ্ন নিয়ে নারী কোটার সমালোচনা করে যাচ্ছে অনেকেই। তাছাড়া, কোটা সংস্কার আন্দোলনগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণও চোখে পড়ার মত!

কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করছে নারীরাও; ছবি: আনোয়ার হোসাইন
ইউনেস্কোর তথ্যমতে, ২০১৬ সালে আমাদের দেশে নারী শিক্ষার হার ছিল ৬৯.৯ শতাংশ। যেখানে, পুরুষদের শিক্ষার হার ছিল ৭৫.৬২ শতাংশ। কিন্তু আশার কথা হচ্ছে, একই সময়ে ১৫-২৪ বছর বয়সী ছেলেদের শিক্ষার হার ছিল ৯০.৯১ শতাংশ। যেখানে, ১৫-২৪ বছর বয়সী মেয়েদের শিক্ষার হার ছিল ৯৩.৫৪ শতাংশ! এখানে এ ব্যাপারটি স্পষ্ট যে, মেয়েরা আসলে ছেলেদের চেয়েও এগিয়ে যাচ্ছে।

এরপর আসা যাক মুক্তিযোদ্ধা কোটায়। প্রথম শ্রেণীর সরকারী চাকরিতে সবচেয়ে বেশি যে কোটা, সেটি মুক্তিযোদ্ধা কোটা। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান ও নাতি-নাতনীরা শতকরা ৩০ শতাংশ কোটা সুবিধা ভোগ করে থাকে।

আমরা জানি, কোটা একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা, যা অনগ্রসর এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য প্রযোজ্য। কোনো প্রকার পুরস্কার হিসেবে কোটা ব্যবস্থা চালু করা হয়নি। এখন দেখতে হবে, মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলো কি সাধারণ জনগণের থেকে অনেক পিছিয়ে আছে? তাঁরা যদি পিছিয়ে নাও থাকে তবে কি শুধুমাত্র পুরস্কার হিসেবে তাঁদের কোটা পাওয়া উচিৎ? পুরস্কার হিসেবেও যদি মুক্তিযোদ্ধা কোটা রাখা যেতে পারে, তাহলে নাতি-নাতনীদেরও কোটা সুবিধা পাওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত? আর অল্পসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধার জন্য ৩০ শতাংশ কোটাই বা কতটুকু মানানসই? 

এদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল বৈষম্য দূর করে সবার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। সেই সময় ৭ কোটি মানুষের মধ্যে সবাই যুদ্ধের ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়েনি। ঝাঁপিয়ে পড়েছিল অল্পসংখ্যক কিছু মানুষ। এরাও আবার ২ ধরনের। প্রথম প্রকার, যারা ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগ করে জাতির স্বার্থে প্রাণ নিয়েছে; আর দ্বিতীয় প্রকার যারা জাতির স্বার্থ বিবেচনা না করে নিজ স্বার্থে মানুষের ওপর অত্যাচার চালিয়েছে। এদের একদলকে আমরা মুক্তিযোদ্ধা বলি, আর অপর দলকে যুদ্ধাপরাধী। 

পার্থক্যটা কোথায়? উত্তর হচ্ছে, নীতিগত দিক থেকে এবং আচরণগত দিক থেকে। আর এই পার্থক্যের কারণেই একদল আমাদের কাছে অনেক সম্মানের আর আরেকদল আমাদের কাছে ঘৃণিত। যেই ব্যক্তিস্বার্থ ত্যাগের কারনে মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের কাছে অনেক সম্মানের, আজ সেই সম্মানের জায়গা থেকে নেমে এসে তো তাঁদের ব্যক্তিস্বার্থ নিয়ে আলোচনা করার কথা না।

এখন প্রশ্ন হল, আমাদের জন্য যাদের এই ত্যাগ স্বীকার এবং যারা কখনোও নিজেদের স্বার্থের জন্য আমাদের সামনে এসে দাঁড়াবেনা, তাদের জন্য কি আমাদের কোনো করণীয় নেই? 

আছে, অবশ্যই আছে। তবে তা কোটা দিয়ে নয়। ধরে নিলাম, দুইজন মুক্তিযোদ্ধার একজন যুদ্ধে গিয়ে নিজের একটি পা হারিয়েছে। ফলে তাঁর আর বিয়ে হয়নি। সুতরাং, তাঁর কোনো সন্তানও নেই। আর অন্যজন একজন ধনী ব্যবসায়ী। তাঁর আছে ৫ টি ছেলে। এখন আমরা যদি এখানে কোটা ব্যবস্থা প্রয়োগ করি, তাহলে ব্যাপারটা কতটা উদ্ভট তা পরিস্কার হয়ে যাবে। আর মুক্তিযোদ্ধার নাতি-নাতনীরা যদি তাদের দাদা-দাদীর অবদানের অজুহাতে বিশেষ সুবিধা ভোগ করতে পারে, তাহলে রাজাকারদের নাতি-নাতনীদেরকে কেন বিসিএস থেকে নিষিদ্ধ করা হবে না! আসলে পরিবারতন্ত্রের রাজনীতি দেখতে দেখতে আমরা ভুলেই গেছি যে, স্বাধীন দেশে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকটি শিশুই সমান অধিকার নিয়ে জন্মায়।

গলায় সনদ ঝুলিয়ে ও রাস্তা ঝাড়ু দিয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছে শিক্ষার্থীরা; ছবি: Md Eadrish Ali
কোটা শুধুমাত্র অনগ্রসর ও বঞ্চিত মানুষের অধিকার। বঞ্চিত মানুষের অধিকারের জন্যই একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধারা লড়েছেন। সুতরাং, পুরস্কার হিসেবে কোটার প্রচলনটা অযোক্তিক এবং সংবিধান বিরোধীও বটে।

এখন অনেকেই বলবে যে, অনেক মুক্তিযোদ্ধা পরিবারই তো অনগ্রসর ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আওতায় পরে, তারাও কি কোটা পাবেনা! হ্যাঁ, আমি আপনাদের সাথে একমত। যারা সত্যিকার অর্থেই অভাব-অনটনে আছে তাদের জন্য অবশ্যই কোটার ব্যবস্থা থাকা উচিৎ। কিন্তু আর্থিক ভাবে সচ্ছল পরিবারের ছেলেমেয়েদের জন্য কোটা সুবিধা রাখাটা তেলের মাথায় তেল দেওয়ার মতই হাস্যকর!

এখন আসি সংখ্যায়। বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ০.১৩ শতাংশ। এদের মধ্যে যে সবাই অস্বচ্ছল নয় এটা নিয়ে কারো কোনো দ্বিমত থাকার কথা না। কিন্তু তাদের জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে ৩০ শতাংশ কোটা! 

পাশের বাড়ির দারোয়ান মতিন মিয়া তো মজা করে বলেই ফেলল, “মামা যদি একটা মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট নিতে পারতাম, তাইলে দেখতেন আইজ পুরা দেশটা দখল কইরা ফালাইতাম।"

আমি আগ্রহ নিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, “কিভাবে?”

উনি উত্তর দিলেন, “এইডাতো একেবারে সোজা। আমার তো এমনেই তিনটা বউ, তখন আরও দুই একটা বিয়ে করতাম। তারপর অনেকগুলা বাচ্চা। তারপর অগুলারেও অনেকগুলা বিয়া করাইতাম। অগুলারও অনেকগুলা বাচ্চা হইত। তারপর সবগুলারে বিসিএস পরীক্ষা দেওয়াইতাম।"

আমি তো শুনে হাসতে হাসতে শেষ! কিন্তু পরমুহূর্তেই মনে হল, সে তো কিছু ভুল বলে নাই। ৩০% কোটা কোনোবারই তো পূরণ হয়না। আর ছেলে ক্যাডার হয়ে গেলেই তো আর নাতির কোটা বাতিল হয়ে যাচ্ছে না! 

এর পরও হয়ত অনেকে বলতে পারে যে, শুধু অস্বচ্ছল পরিবারকে দিলেই হবে না, মুক্তিযোদ্ধা কোটাটা অনেকটা পুরস্কার হিসেবেই থাকতে হবে। তাদেরকে আমি বলতে চাই, তাহলে আপনারা সবার আগে জাতীয় সংসদে ৩০% কোটার দাবি জানান। দেশ যাদের হাত ধরে স্বাধীন হল, তাদের সন্তান ও নাতি-নাতনীরাই তো দেশ চালানোর দায়ভার হাতে নিবে! আশা করা যায় রাজনীতিবীদরা খুব সহজেই আপনাদের এ দাবী মেনে নিবে।

এরপর আপনারা চাইলে, জাতীয় ক্রিকেট দলেও কোটা চাইতে পারেন। দেশের হয়ে লড়ার জন্য আক্ষরিক অর্থেই মাঠে নামার সুযোগ রয়েছে এখানে! হয়ত কোটার কারণে দল একটু দুর্বল হতে পারে। কিন্তু তাতে আর কি আসে যায়! এ তো আর দেশের আমলাতান্ত্রিক দুর্বলতা সৃষ্টির সম্ভাবনার চেয়ে বেশি গুরুত্বর নয়! এখন অনেকেই বলবে, বিসিএস এ পাস মার্ক পাওয়া ছাড়া কোটা ধারীকেও নেওয়া হয়না। সুতরাং তারা অবশ্যই যোগ্য। তাদেরকে বলব, তাহলে নিয়মটা এমন করা উচিৎ যে, জাতীয় দলে প্রথম একাদশে কোটাধারীদের প্রবেশ করতে হলে কমপক্ষে এ-দলে জায়গা করে নিতে হবে। এখন মনে হয় আপনাদের জাতীয় দলে কোটা নিয়ে আর কেউ দ্বিমত করবেনা।

এখন প্রশ্ন হতে পারে, বিসিএস পরীক্ষায় কি সবসময় যোগ্য ব্যক্তিটিই ভালো পজিশন পায়? যদি না পায়, তবে শুধুমাত্র পাস মার্ক পাওয়া কোটাধারীকে কেন কম যোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে?

আসলে পরীক্ষা পদ্ধতিতে যদি দুর্বলতা থাকে, তাহলে আমাদের অবশ্যই পরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার করতে হবে। কিন্তু তাই বলে দুর্বল পরীক্ষা পদ্ধতির দোহাই দিয়ে কোটাধারীর যোগ্যতা বাড়িয়ে দেওয়াটা হাস্যকর!

বর্তমান সময়ে আরেকটি প্রসঙ্গ খুব আলোচনায় আসছে, তা হচ্ছে 'ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা'। আমরা জানি, প্রত্যেকবার নতুন সরকার আসে আর মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বাড়ে। ২০১৬ সাল পর্যন্ত ছয়বার মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা পরিবর্তন করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা ও মানদণ্ডও পাল্টেছে ১০ বার। একই সাথে বেড়েছে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যাও। আর এসব কারণে অনেকেই মনে করছে, একদিকে যেমন বাড়ছে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা, তেমনি অপরদিকে কমছে তাঁদের সম্মান

অনেকেই বলে, কোটা ব্যবস্থা তো অনেক দেশেই আছে। আমাদের দেশের মানুষদের এটা মেনে নিতে সমস্যা কোথায়? যারা এই ধরনের কথা বলে তাদেরকে বলব পুরোটা জেনে তারপর কথা বলতে। যুক্তরাষ্ট্রে কোটাধারীদের আগে থেকেই একটা নম্বর দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ওপেন পরীক্ষায় তাদের বাকি সবার সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়। আর ভারতে কোটা দেওয়া হয় উপার্জনের ভিত্তিতে। অর্থাৎ, উচ্চ আয়ের মানুষরা কোটা পায় না। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোও এক্ষেত্রে ছাড় পায় না। আর একবার যে কোটার সুবিধা পাবে, সে আর কখনও কোটার সুবিধা পাবে না। অর্থাৎ বাবা যদি কোটা সুবিধা পায় তার সন্তানরা কোনো কোটা সুবিধা পাবে না। কেউ যদি কোটা দিয়ে কলেজে ভর্তি হয়, তাহলে সে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে কোটা সুবিধা পাবে না। আর যে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটায় ভর্তি হয়েছে, সে কখনও চাকরিতে কোটা সুবিধা পাবে না।

কিন্তু বাংলাদেশে একই পরিবার থেকে একাধিক ব্যক্তি কোটা সুবিধা ভোগ করা ছাড়াও অনেকেই বংশ পরম্পরায় বছরের পর বছর এই সুবিধা ভোগ করে আসছে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে কোটা সুবিধা নিচ্ছে, তারা চাকরিতে ঢোকার ক্ষেত্রে আবারও নিতে পারছে। সুতরাং বাইরের দেশের কোটা ব্যবস্থার দোহাই দিয়ে এখানে পার পেয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগই নেই। 

বাংলাদেশ সরকার এখন পর্যন্ত তিনটি পাবলিক এডমিনিস্ট্রেশন রিফর্মস কমিশন স্থাপন করেছে। তিনটি কমিশনই সুস্পষ্টভাবে বলেছে যে, কোটা একেবারে তুলে দেয়া উচিত। হ্যাঁ, ঠিকই শুনেছেন। কোনো প্রকার সংস্কারের কথা তারা বলেনি। তারা বলেছে এটি সময় নিয়ে একেবারে বন্ধ করে দিতে। আর এসব কমিশন কিন্তু আমার আপনার মত আম জনতাদের নিয়ে করা হয়নি। প্রশাসনের সবথেকে যোগ্য লোকদের নিয়েই কমিশন গুলো করা হয়েছিল।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বিষয়টি এতটা সুস্পষ্ট হওয়ার পরও কেন এর সংস্কার হতে এত সময় লাগছে? 

আসলে কোটা ব্যবস্থার কারনে অনেক লোকই লাভবান হয়। আর তারা কোটা ব্যবস্থা অটুট রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। এর সাথে কিছু রাজনৈতিক স্বার্থও জড়িত আছে। আর এ কারণেই সারা দেশের মানুষের তীব্র অসন্তোষ থাকার পরও কোটা ব্যবস্থায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। 

বর্তমানে সারাদেশে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র সংরক্ষণ পরিষদ’ এর ব্যানারে পাঁচটি বিষয়ে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চলছে:

১. কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে।
২. কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধাতালিকা থেকে শূন্য পদে নিয়োগ দিতে হবে।
৩. সরকারি চাকরিতে সবার জন্য অভিন্ন কাটমার্ক ও বয়স-সীমা নির্ধারণ করতে হবে (মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ক্ষেত্রে চাকরির বয়স-সীমা ৩২ বছর, কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য তা ৩০ বছর)
৪. কোটাধারীদের জন্য কোনো ধরনের বিশেষ পরীক্ষা নেওয়া যাবে না (কিছু কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেদনই করতে দেওয়া হয় না, কেবল কোটাধারীরা আবেদন করতে পারে)
৫. নিয়োগ পরীক্ষায় কোটার সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করতে দেওয়া যাবে না।

কোটা সংস্কারের দাবিতে উত্তাল সারাদেশ
কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দিয়েছে সারা দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী। সরাসরি যোগ না দিলেও সমর্থন জানিয়ে গেছে সমাজের নানা শ্রেণীর মানুষ। শুরু থেকেই এ আন্দোলনকে সমর্থন করে গেছেন অনেক মুক্তিযোদ্ধাও। এমনকি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের একটি বড় অংশও সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে সরাসরি এ আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। এখন পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা শান্তিপূর্ণভাবেই আন্দোলন করে যাচ্ছে। তবে কোটা সংস্কারের উদ্দ্যোগ না নিলে কিছুদিনের মধ্যেই এই আন্দোলন আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। 

তবে, শুধু কোটা সংস্কার করলেই হবে না। আমাদের দেশের বিসিএস নিয়োগ পদ্ধতিতেও কিছু পরিবরতন আনা দরকার। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আকবর আলি খান বলেন, “বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ পদ্ধতিতে অসঙ্গতি রয়েছে। পাবলিক সার্ভিস কমিশন চায়, সব পদের জন্য একই পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগ হবে। এটি একটি উদ্ভট ধারণা। এর মাধ্যমে সঠিক ক্যাডার পাওয়া যায় না।” তিনি বলেন, “পজিশন বেইজড যোগ্যতম ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে। নির্দিষ্ট কিছু পদে নেতৃত্বের গুণাবলীর ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া উচিত। বাকি সব পদে পজিশন ভিত্তিক নিয়োগ দিতে হবে। বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে এ রকম বড় ধরনের পরিবর্তন দরকার।”

আমাদের দেশের কোটা পদ্ধতি অনেকটা উদ্ভট হওয়ার পরও কিছু মানুষকে বরাবরই দেখা যায় প্রকাশ্যে এর পক্ষ নিয়ে কথা বলতে। তাদের প্রত্যকেরই কিছু না কিছু স্বার্থ জড়িত আছে। কেউ কেউ রাজনৈতিক স্বার্থে এর পক্ষে কথা বলে। আবার কেউ কেউ নিজের দুর্বলতাকে ঢাকার জন্য এবং অতিরিক্ত সুবিধা ভোগ করার লোভে এর পক্ষ নিয়ে কথা বলে

তবে, আমাদের একটি কথা সবসময় মনে রাখা দরকার, কোটা পদ্ধতি কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। এটি একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা। তাই, যুগ যুগ ধরে এটি চলতে পারে না।





















Friday, November 10, 2017

Vladimir Putin (Владимир Путин)

The Most Powerful Man In The World


Russia is the largest country in the world by surface area, covering more than 1/8th of the Earth's inhabited land area. It is the 9th most populous country with over 146 million people. And It is the birth place of a great leader named Vladimir Putin, the most powerful man in the world.

Early life:

Little Putin; Source: yogawithamey.com
Putin was born into a poor Soviet family on October 7, 1952 in Leningrad (Saint Petersburg). His father served in a submarine before the Great Patriotic War. Putin's mother was 41 years old at the time of his birth and in extremely weak physical condition. They lived in a communal apartment block with three other families.

In his official biography, the Russian President revealed that he used to spend his leisure time hunting rats on the stairwell.

Putin was the third child of his parents. Both of his brothers died before he was born.

Sambo & Judo:

At an early age Putin started training in ‘Sambo’ (a Soviet martial art). He also participated and won several competitions in both Sambo and Judo in Leningrad (Saint Petersburg).

In November, 2012 the International Judo Federation granted him a high-ranking 8th Dan, one of the highest grades in Judo.

Again in 2013 on his visit to South Korea, the Russian leader was awarded grandmaster rank in taekwondo (a form of martial art popular in Korea) and was honored with a 9th-degree black belt from the president of the World Taekwondo Federation, which puts him a step above Chuck Norris.

KGB (Soviet security agency):

KGB agent Putin; Source: kremlin.ru
In 1975 at the age of 22, Putin joined the Russian secret service (KGB).

For a period of 16 years Putin worked as an officer in the KGB spying in East Germany from 1975 to 1991. Putin's primary job was to recruit foreigners in Dresden for sending them as undercover agents to the USA.

During the fall of Berlin Wall in 1989, Putin had to burn KGB files as a mob tried to enter the agency's headquarters in Dresden. He moved back to Russia in 1991 and left the agency with the rank of lieutenant colonel. And then he started his political career.
In politics, Putin decided to choose against communism.



Political Career:

Vladimir Putin has been ruling Russia since 1999. Within this time he enjoyed the premiership twice and he is in his third term of presidency.

After coming to the power first thing he did was bringing back the old Soviet Anthem with slightly modified lyrics.

In 1991, after the dissolution of the Soviet Union, President Boris Yeltsin renamed cities, plazas, avenues and pulled down all Soviet-era monuments. In 1993 he confirmed the lyric-free 'Patrioticheskaya Pesnya', composed by Mikhail Glinka, as the new national anthem of Russian Federation. But this anthem proved to be unpopular with the Russian public, because of its tune and lack of lyrics.

In 2000, soon after Putin took the office, the federal legislature established and approved the music of the anthem of the Soviet Union, with newly written lyrics as the new anthem of Russia. It was named 'The Hymn of the Russian Federation'.

The original song was 'The Hymn of the Soviet Union', the music of which was written by Alexander Alexandrov and the lyrics by G. G. El-Registan.




It was first adopted on March 15 in 1944, during Joseph Stalin's dictatorship.

Once putin came into power the country started to grow economically. During his first term of presidency, the Russian economy grew for 8 straight years, and GDP (measured in purchasing power) increased by 72%.

Putin is challenging the European Union as well as the United States in major conflicts of war in the middle east and in eastern Europe from the beginning. In Ukraine he has annexed the Crimean Peninsula and in Syria he is supporting the government lead by Bashar al-Assad.

Putin has enjoyed high domestic approval ratings during his career, and received special international attention as one of the world's most powerful leaders. U.S. intelligence agencies have accused him of launching an influence campaign against Hillary Clinton in the 2016 presidential election of the United States of America.

At the end of every year Forbes magazine publishes a list of the world's most Powerful People. Vladimir Putin has been leading the list since the year 2013.


Putin's supporters; Source: gettyimages.com
President Putin; Source: AWD News


Family:

In 2013, Putin announced that he was divorcing his wife Lyudmila, which was a great surprise to many because few actually knew that he was a married person. She was his wife of almost 30 years.

Putin has also two daughters with his former wife Lyudmilia, Yekaterina and Mariya. He has kept their existence almost completely secret.

Putin's Grandfather:

Putin’s grandfather, Spiridon Ivanovich Putin, was a cook for former Bolshevik leader Vladimir Lenin at his country house. After Lenin's death, he was transferred to one of Joseph Stalin 's dachas. He worked there for a long time.

Religious Belief:

Putin is a devoted Orthodox Christian and he strictly holds to the traditional values of the Orthodox Church. He believes that same-sex marriage is equal to Satan-worshipping.

Putin in an Orthodox Church; Source: mospat.ru
Putin and Dmitry Medvedev; Source: Reuters

Music:

In 2010, Putin shocked the world with his musical skills for a charity event in St. Petersburg. He went to a piano and began to skillfully play. Then he took the microphone and sang the song 'Blueberry Hill'. Famous faces like Kevin Costner (actor), Gerard Depardieu (actor) and Sharon Stone(actress) were also present at that event.

A Pilot:

Vladimir Putin is a licensed pilot and once helped to put out a forest wildfire in the Russian countryside by co-piloting an aircraft.

[N.B: He is also the hero in an online comic series called 'SuperPutin']

Animal Lover:

Putin is a genuine animal lover.

There are hundreds of photographs of Putin spending time with animals from pet dogs to tigers and polar bears. But he loves Dogs more than other animals.

Putin has several pet dogs. One of them is a female black Labrador Retriever named Koni. In January 2007 it was alleged that Putin brought Koni for a diplomatic meeting with the German chancellor Angela Merkel, knowing very well that she is afraid of dogs, in order to intimidate her.


Putin with dogs; Source: Reuters
Labrador Retriever Koni; Source: AFP


Wine Controversy:

On September, 2015 Putin drank a 240-year-old bottle of Spanish wine during a visit to what is claimed to be the biggest wine collection in the world at the Massandra winery in Crimea with former Italian Prime Minister Silvio Berlusconi.

Before the annexation of the area by Russia in March 2014, the winery was owned and by the Ukrainian government. It houses a number of rare, centuries-old bottles of wine and sherry.

Winery was first started in Crimea by Prince Lev Golitsyn in 1894. Since then it’s wines have been celebrated all over the Soviet Union (Russia). The Massandra wine cellars hold about 500,000 bottles, including five bottles of the 1775 ‘Jeres de la Frontera’.

Putin and his longtime friend Berlusconi tried one of the bottles of 1775 ‘Jeres de la Frontera’ that was brought to Crimea by Count Mikhail Vorontsov, during the reign of Catherine the Great.

Director Yanina Pavlenko uncorked the bottle there for Putin and Berlusconi.

Silvio Berlusconi; Source: ccma.cat
Putin at Massandra winery; Source: EPA

The prosecutor general of the former Crimean government, (has been operating in exile since Russia annexed the area) opened a criminal case for large scale theft over the incident. He estimated a loss of two million hryvnia (about $78,846).

Height:

Putin is known to be 5'7'' tall. But some specialists have speculated that he is shorter than that and suffers from the Napoleon complex (short man’s syndrome).

Some Other Facts:

  • Putin sleeps late at night and take the first meal at noon.
  • He loves to swim.
  • Putin is also a talented hockey player.
  • Putin liked Beatles.
  • He also liked spy novels while growing up.
  • He is fluent in German, but not very confident in English.
  • Putin doesn’t smoke and rarely drinks.
  • He regularly runs out late for press meetings and other public appearances.
  • Putin doesn’t live in Moscow, he thinks the city is too congested to live and prefers to work from his palace outside the city.

(Do you like Vladimir Putin? Let me know by commenting down below..)

Find me on: YouTubeInstagramFacebookSoundCloudX.COM